মৃত্যুর আগে তরুণীসহ দেড় ঘণ্টা বারে ছিলেন তাহসিফ, সিসিটিভিতে মিলল নতুন তথ্য
- Update Time : ০৬:৩৬:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / 12

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর আগে তাঁর গতিবিধি নিয়ে তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যাওয়ার আগে রাজধানীর উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে এক তরুণী ও বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন তিনি। ওই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে প্রবেশ করেন তাহসিফ ও তাঁর বান্ধবী। তাঁরা একটি মোটরসাইকেলে সেখানে যান। কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেলে সেখানে পৌঁছান দীপ।
মোটরসাইকেল পার্ক করে তিনজনই রেস্টুরেন্টের ভেতরে প্রবেশ করেন। অন্য একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ ও তাঁর বান্ধবী লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে দীপের জন্য অপেক্ষা করছেন। পরে হেলমেট পরা অবস্থায় দীপ সেখানে পৌঁছালে তিনজন একসঙ্গে বারের লিফটে ওঠেন।
সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর তাঁরা আবার মোটরসাইকেলে করে বেরিয়ে যান। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তাহসিফের বান্ধবীকে তাঁর বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর তাহসিফ ও দীপ যান টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায়।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে ওই রাতের যাতায়াত, বিভিন্ন স্থানে অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। তবে এ বিষয়ে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে শনিবার বেলা সোয়া ২টার দিকে দীপকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাঁর সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, নিহত কে এম তাহসিফ সাউরি বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি তুরাগ থানার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে দীপ তাঁকে বাসা থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ ভাসছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
সুরতহাল করার সময় নিহতের ট্রাউজারের পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ঘটনার দিন তাহসিফকে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন দীপ।
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ স্বীকার করেছেন, তাহসিফ তাঁর বড় ভাই ও সিনিয়র ছিলেন। তবে তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।























