১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় জাপান, বৈঠকে যে আগ্রহ জানালেন মন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৪৪:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 13
Print

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপান। টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহের কথা জানিয়েছেন জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিয়োসেই। বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেলে টোকিওতে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন সাক্ষাতের বিষয়টি জানান।

সাক্ষাৎকালে আকাজাওয়া রিয়োসেই বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় দেশ। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের আরও উন্নয়ন এবং দেশটিতে জাপানের বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে তাঁর দেশ আগ্রহী।

জাপানি ব্যবসায়ী মহলে বাংলাদেশের প্রতি যে বিনিয়োগ-আগ্রহ রয়েছে, তা কাজে লাগানোর ওপরও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে আরও জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের বিষয়টি আলোচনায় আসে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাপান সরকারের অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

এর আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়। আকাজাওয়া রিয়োসেইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সেই আলোচনায় উঠে আসা সহযোগিতার বিষয়গুলো এগিয়ে নেওয়া এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করে।

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া—দুজনই দুইবার করে জাপান সফর করেছেন। তাঁদের সময় থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের বিকাশ ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে। সেই ঐতিহ্যকে সামনে এগিয়ে নিতে চান বলেও জানান তারেক রহমান।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিয়োসেইকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

জাপানের এই আগ্রহ বাংলাদেশের জন্য দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে বৈঠকে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হলেও এ সাক্ষাৎ থেকে নির্দিষ্ট কোনো নতুন বিনিয়োগ চুক্তি বা অর্থের পরিমাণ ঘোষণার তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে আলোচনার পরবর্তী অগ্রগতি এবং বাস্তব বিনিয়োগ উদ্যোগের দিকে নজর থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় জাপান, বৈঠকে যে আগ্রহ জানালেন মন্ত্রী

Update Time : ০৮:৪৪:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
Print

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপান। টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহের কথা জানিয়েছেন জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিয়োসেই। বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেলে টোকিওতে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন সাক্ষাতের বিষয়টি জানান।

সাক্ষাৎকালে আকাজাওয়া রিয়োসেই বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় দেশ। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের আরও উন্নয়ন এবং দেশটিতে জাপানের বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে তাঁর দেশ আগ্রহী।

জাপানি ব্যবসায়ী মহলে বাংলাদেশের প্রতি যে বিনিয়োগ-আগ্রহ রয়েছে, তা কাজে লাগানোর ওপরও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে আরও জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের বিষয়টি আলোচনায় আসে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাপান সরকারের অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

এর আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়। আকাজাওয়া রিয়োসেইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সেই আলোচনায় উঠে আসা সহযোগিতার বিষয়গুলো এগিয়ে নেওয়া এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করে।

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া—দুজনই দুইবার করে জাপান সফর করেছেন। তাঁদের সময় থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের বিকাশ ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে। সেই ঐতিহ্যকে সামনে এগিয়ে নিতে চান বলেও জানান তারেক রহমান।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিয়োসেইকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

জাপানের এই আগ্রহ বাংলাদেশের জন্য দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে বৈঠকে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হলেও এ সাক্ষাৎ থেকে নির্দিষ্ট কোনো নতুন বিনিয়োগ চুক্তি বা অর্থের পরিমাণ ঘোষণার তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে আলোচনার পরবর্তী অগ্রগতি এবং বাস্তব বিনিয়োগ উদ্যোগের দিকে নজর থাকবে।