‘ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগেই হয়তো আজ বিমানবাহিনীতে নেই’: তাহসিফ
- Update Time : ০২:৫০:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 5

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময়কার একটি ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে মৃত্যুর প্রায় তিন মাস আগে কথা বলেছিলেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। ওই অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের পর পুরোনো সেই সাক্ষাৎকার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে ভিডিওসংক্রান্ত অভিযোগের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
গত ২১ জুলাই ‘স্পিক উইথ রশিদ’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত পডকাস্টে নিজের চাকরি, বিমানবাহিনীর অভিজ্ঞতা এবং তাঁকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন সম্পর্কে কথা বলেন তাহসিফ। ওই প্রতিবেদনকে প্রোপাগান্ডা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে উপস্থাপক ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময়কার ভিডিও নিয়ে তাঁর কাছে জানতে চান। ভিডিওটি ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তাহসিফের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রকাশিত অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে তাহসিফ বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে ভিডিওটি তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন বলে লেখা হলেও, তিনি ভিডিওটি ধারণ করেছিলেন—এমন কথা বলা হয়নি। তাঁর দাবি, ভিডিওটি রিফাত আশরাফী ধারণ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল। এরপর অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তাহসিফ বলেন, ‘আমি যদি ভিডিওটা করেও থাকি, ছড়িয়েও থাকি, হোয়াট ইজ দ্য প্রুফ দে আর হ্যাভিং। এটাও হতে পারে, এজন্য আমি হয়তো আজকে এয়ার ফোর্সে নেই।’
এরপর উপস্থাপক জানতে চান, ওই ভিডিও ধারণ বা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের কারণেই তাঁকে বিমানবাহিনী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন কি না।
জবাবে তাহসিফ বলেন, ‘হতে পারে।’ তবে এ বিষয়ে সব কথা প্রকাশ করতে পারবেন না বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, ওই সময়ের কিছু ঘটনা সম্পর্কে তাঁর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অভিযোগটির কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
তাহসিফের এই বক্তব্যে বিমানবাহিনীতে তাঁর চাকরির অবসানের সঙ্গে ভিডিওসংক্রান্ত অভিযোগের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত ধারণা উঠে আসে। তবে সাক্ষাৎকারে তিনি এমন কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি, যা দিয়ে অভিযোগের সত্যতা কিংবা চাকরি ছাড়ার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত করা যায়।
এদিকে, তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের পর তাঁর এক বন্ধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার কথা বলেছেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত কে এস এম ইনতিসার ইনজামাম নামের ওই ব্যক্তি তাহসিফের সঙ্গে নিজের বন্ধুত্বের কথাও উল্লেখ করেন।
পোস্টে ইনতিসার দাবি করেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে তাহসিফের সম্পৃক্ততা নিয়ে আগে আলোচনা হয়েছিল এবং এ কারণে তাঁর মানহানি করা হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন, ভিডিওসংক্রান্ত ঘটনার সঙ্গে তাহসিফের মৃত্যুর সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে একই পোস্টে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত বিরোধ বা দুর্ঘটনার বিষয়টি পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত না হলে তিনি ঘটনাটিকে রাজনৈতিক বলে ধরে নেবেন।
ইনতিসার তাঁর পোস্টে তাহসিফের সঙ্গে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে পড়াশোনা এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে একই কোর্সে থাকার কথাও জানান। তবে বন্ধুর এসব বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত দাবি; এগুলো দিয়ে তাহসিফের মৃত্যুর কারণ বা ভিডিওসংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা যায় না।
তাহসিফের মৃত্যুর বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ২৮ অক্টোবর তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ হওয়ার পরদিন তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব।
তাহসিফের চাকরির অবসান নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। কোথাও তাঁকে বরখাস্ত বলা হয়েছে, আবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ২০২৫ সালের আগস্টে জানিয়েছিল, তিনি প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম অনুযায়ী অবসর নিয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না। ফলে চাকরি ছাড়ার কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ও তাঁর নিজের বক্তব্য আলাদা করে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে তাহসিফের পুরোনো সাক্ষাৎকার, বন্ধুর ফেসবুক পোস্ট এবং তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আলোচনা নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে ভিডিও ধারণ বা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনো প্রকাশিত হয়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রামাণ্য তথ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
























