সরকারের সবকিছু ভেঙে তছনছ করে দেব : জামায়াত আমির
- Update Time : ০২:৫৬:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / 5

গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবি আদায়ে সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণ তাঁদের সঙ্গে থাকলে সাত দফা বাস্তবায়ন করে ছাড়বেন। সরকার দাবি মেনে না নিলে সরকারের সবকিছু ভেঙে তছনছ করে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকা, খুলনা ও কুষ্টিয়ায় লংমার্চে যাওয়ার পথে শরীয়তপুরের নাওডোবা পদ্মা সেতু এলাকায় আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। আগামী ৯ তারিখের আগে সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ঘোষণা না দিলে দাবি আদায় করে ছাড়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এ লংমার্চের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য।
পথসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাত দফার মূল দাবি হচ্ছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। এই একটি দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাকি ছয়টি দাবি সামনে এসেছে। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি জাতির গণরায়কে উপহাস করছে এবং জনগণের সঙ্গে মিথ্যাচার ও প্রতারণা করছে। সরকার জনগণের ওপর স্বৈরশাসন চালিয়ে যেতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘যে জাতি স্বাধীনতার জন্য বুকে গুলি নেয়, সে জাতি কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না।’ জনগণের সমর্থন থাকলে দাবি বাস্তবায়নে তাঁরা পিছপা হবেন না বলেও জানান জামায়াতের আমির।
পথসভায় খেলাফত মজলিসের সভাপতি মামুনুল হকও বক্তব্য দেন। তিনি সরকারের বিভিন্ন কার্ড বিতরণ কর্মসূচির সমালোচনা করে বলেন, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হলে জনগণ সরকারকে চূড়ান্তভাবে ‘লাল কার্ড’ দেখাবে।
জেলা আমির আবদুর রব হাসেমীর সভাপতিত্বে পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ সময় খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমেদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পাশাপাশি দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট, দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির মতো বিষয়গুলোও সামনে আনা হয়েছে। এসব দাবি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

























