নভেম্বরেও বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম, মোটরসাইকেল ও গাড়িচালকদের জন্য স্বস্তির খবর
- Update Time : ০৮:১৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
- / 5

নতুন মাস শুরু হলেও দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না। নভেম্বর মাসের জন্য ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের বিদ্যমান মূল্য অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে আগামী ১ নভেম্বর থেকে আগের নির্ধারিত দামেই জ্বালানি তেল কিনতে পারবেন গ্রাহকেরা। এতে মোটরসাইকেল চালক, ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক, পরিবহন খাতের ব্যবসায়ী এবং ডিজেলনির্ভর বিভিন্ন পেশার মানুষের জ্বালানি ব্যয়ে আপাতত নতুন কোনো পরিবর্তন আসছে না।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে নভেম্বর মাসের জ্বালানি তেলের মূল্যসংক্রান্ত এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে নভেম্বর মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের সর্বশেষ নির্ধারিত দাম বহাল রাখা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত আগামী ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হবে ১৩৫ টাকায়। অকটেনের দাম নির্ধারিত থাকছে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৬০ টাকা। অন্যদিকে প্রতি লিটার কেরোসিন কিনতে গ্রাহকদের গুনতে হবে ১৫৫ টাকা। অর্থাৎ নতুন মাসে জ্বালানি তেলের কোনো ধরনের মূল্যবৃদ্ধি বা মূল্যহ্রাস হচ্ছে না।
জ্বালানি তেলের এই দাম অপরিবর্তিত থাকার বিষয়টি বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রতিদিনের যাতায়াত, অফিসে আসা-যাওয়া, ব্যবসায়িক কাজ কিংবা দূরপাল্লার ভ্রমণে জ্বালানি খরচ সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত। অকটেন ও পেট্রোল ব্যবহারকারীদের নভেম্বর মাসেও আগের মতোই প্রতি লিটার জ্বালানির জন্য অর্থ ব্যয় করতে হবে। ফলে শুধু মাস পরিবর্তনের কারণে গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালানোর জ্বালানি খরচ বাড়ছে না।
অন্যদিকে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত থাকাও পরিবহন ও কৃষি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশের পণ্যবাহী ট্রাক, বাস, অনেক গণপরিবহন এবং কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ডিজেলনির্ভর। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে এসব খাতের পরিচালন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়লে তার প্রভাব বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও দামের ওপরও পড়তে পারে। তবে নভেম্বর মাসে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত থাকায় এ ক্ষেত্রে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধিজনিত নতুন চাপ তৈরি হচ্ছে না।
এদিকে কেরোসিনের দাম বহাল রাখার সিদ্ধান্তও সংশ্লিষ্ট ভোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ সুবিধার সীমাবদ্ধতা রয়েছে এমন এলাকায় এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে কেরোসিন ব্যবহার করেন এমন মানুষ আগের দামেই জ্বালানি কিনতে পারবেন।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। ওই সমন্বয়ের পর নির্ধারিত নতুন মূল্য ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়। এরপর অক্টোবর মাসে বিদ্যমান দাম বহাল রাখা হয় এবং এবার নভেম্বর মাসেও একই মূল্য বজায় রাখার সিদ্ধান্ত এসেছে।
জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য, আমদানি ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট খরচ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের পরিবর্তন হলেও দেশের ভোক্তা পর্যায়ে তার প্রভাব কখন পড়বে, তা নির্ভর করে সরকারের মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্তের ওপর।
সব মিলিয়ে নভেম্বর মাসে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তে যানবাহন ব্যবহারকারী ও জ্বালানিনির্ভর বিভিন্ন খাতের মানুষ আপাতত আগের ব্যয়েই কার্যক্রম চালাতে পারবেন। তবে পরবর্তী মাসে জ্বালানি তেলের দাম পরিবর্তন হবে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তের ওপর।






















