এক এনআইডিতে ৫টি ই-রিকশা নিবন্ধন, ফি কত ও আবেদন করবেন যেভাবে
- Update Time : ০৭:৫৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
- / 13

দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা জারি করেছে সরকার। এখন থেকে একজন জাতীয় পরিচয়পত্রধারী সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধন করতে পারবেন। একই সিটি করপোরেশন কিংবা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে এসব যানবাহনের নিবন্ধন নেওয়ার সুযোগ থাকলেও একটি সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চালানো যাবে না। নিবন্ধন ও নবায়ন ছাড়া কোনো ই-রিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বিধিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
নতুন নিয়মে ই-রিকশার মালিকানা, নিবন্ধন, ফিটনেস, চলাচল, চালকের যোগ্যতা এবং নিরাপত্তার বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চালাতে আগ্রহী মালিকদের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন নিতে হবে।
একজন এনআইডিধারী সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধন করতে পারবেন। চাইলে একই সিটি করপোরেশন থেকে পাঁচটি নিবন্ধন নেওয়া যাবে, আবার একাধিক সিটি করপোরেশন থেকেও নিবন্ধন নেওয়া যাবে। তবে একটি সিটি করপোরেশনের নিবন্ধন নিয়ে অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে ই-রিকশা চালানোর সুযোগ থাকবে না। অর্থাৎ, যে সিটি করপোরেশন থেকে নিবন্ধন নেওয়া হবে, সেই এলাকার জন্যই সংশ্লিষ্ট যানবাহনের বাণিজ্যিক চলাচলের অনুমতি কার্যকর হবে।
ই-রিকশার নিবন্ধন নিতে আগ্রহী ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রে আবেদনকারীর বাংলা ও ইংরেজি নাম, বাবা ও মায়ের নাম, জন্মতারিখ, বয়স, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর উল্লেখ করতে হবে।
আবেদনকারীর পাশাপাশি ই-রিকশারও বিস্তারিত পরিচয় দিতে হবে। এতে যানবাহনের ধরন, যাত্রী ধারণক্ষমতা, প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নাম, মডেল, চেসিস নম্বর ও মোটর নম্বর উল্লেখ করতে হবে। মালিকের বিমা পলিসি থাকলে সেটির নম্বরও আবেদনে দিতে হবে। আবেদনকারীর ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, নিবন্ধন ফি জমার রসিদ এবং নির্ধারিত ফিটনেস সনদও জমা দিতে হবে।
বিধিমালায় আবেদনকারীর কাছ থেকে একটি ঘোষণাও নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে তাঁকে নিশ্চিত করতে হবে যে আবেদনপত্রে দেওয়া সব তথ্য ও জমা দেওয়া কাগজপত্র সঠিক। পরবর্তী সময়ে কোনো তথ্য বা দলিল মিথ্যা প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
আবেদন জমা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র যাচাই করবে। একই সঙ্গে ই-রিকশাটি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েট নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তার শর্ত পূরণ করেছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। নির্ধারিত মান পূরণ না হলে নিবন্ধন বা নবায়ন দেওয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে বুয়েটের নির্ধারিত মান অনুযায়ী ফিটনেস সনদ এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষর প্রয়োজন হবে।
সব শর্ত পূরণ হলে আবেদন পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে প্রতিটি ই-রিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর ও নম্বর প্লেট দেওয়া হবে। যানবাহনের দৃশ্যমান স্থানে এই নিবন্ধন নম্বর প্রদর্শন করতে হবে। প্রতিটি ই-রিকশার নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষ হলে নির্ধারিত নিয়মে নবায়ন করতে হবে।
নিবন্ধন ফি কত হবে, সেটিও বিধিমালার সঙ্গে যুক্ত ফি-সংক্রান্ত তফসিলে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা। চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া ই-রিকশার ফিটনেস সার্টিফিকেট ফি ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের কাছে ফি জমা দেওয়ার পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।
নতুন বিধিমালায় ই-রিকশা চালানোর ক্ষেত্রেও বেশ কিছু শর্ত রাখা হয়েছে। চালকের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে এবং তাঁকে নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। যানবাহনের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তার মান বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগের নির্ধারিত চলাচলসংক্রান্ত নির্দেশনা মানতে হবে। ই-রিকশা চালানোর সময় যাত্রী ও সড়ক ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
আবেদন যাচাইয়ের পর কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট না হলে নিবন্ধনের আবেদন নামঞ্জুর করতে পারবে। তবে আবেদন বাতিলের কারণ সাত কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনকারীকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। এ সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদেশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তিতে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
নতুন বিধিমালার ফলে সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশার নিবন্ধন ও চলাচল একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে মালিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিবন্ধনের আগে যানবাহনটি নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মান পূরণ করছে কি না, প্রয়োজনীয় ফিটনেস সনদ পাওয়া যাবে কি না এবং সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের চলাচলসংক্রান্ত শর্ত কী—এসব নিশ্চিত করা। কারণ শুধু নিবন্ধন থাকলেই হবে না, বিধিমালার অন্যান্য শর্তও মেনে চলতে হবে।






















