০৯:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুনারুঘাটে প্রবাসীর মায়ের স্বর্ণ ছিনতাই, আপসের পরামর্শ দিলেন এসআই

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:১৩:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / 15
Print

চুনারুঘাট উপজেলার বাসুল্লা গ্রামে দিনেদুপুরে এক ডেনমার্ক প্রবাসীর মায়ের স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বোনের বাড়িতে যাওয়ার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হন জবেদা খাতুন নামের এক নারী। এ ঘটনায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আপস করার পরামর্শ দেওয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের এমন ভূমিকায় সাধারণ মানুষের মনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর বিকেলে রাখী গ্রামের ডেনমার্ক প্রবাসীর মা জবেদা খাতুন তার বোন মিনারা খাতুনকে নিয়ে বোনের মেয়ে বিউটি আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বাসুল্লা গ্রামের কটাই মিয়ার বাড়ির সামনে পৌঁছালে অতর্কিতভাবে তাদের পথরোধ করেন স্থানীয় মর্তুজ আলী মোল্লার ছেলে আশিকুর রহমান (২২)। এ সময় সে জোরপূর্বক তাদের হাত থেকে স্বর্ণালংকারভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় বাসুল্লা গ্রামের মেন্দি মিয়ার ছেলে সোহেল (২৬) তার সহযোগী ছিল বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী নারীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এলেও ছিনতাইকারী আশিক ও সোহেল স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় ইউপি সদস্য সালেক মেম্বারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গ্রামবাসী অভিযুক্ত আশিক এবং তার পরিবারকে ছিনতাইকৃত স্বর্ণ ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু অভিযুক্তের পরিবার গ্রামবাসীর কথায় কোনো কর্ণপাত না করে কালক্ষেপণ করতে থাকে।

কোনো উপায় না পেয়ে পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী নারী জাবেদা খাতুন চুনারুঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর চুনারুঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রবাস বিষয়টিতে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন না করে এসআই প্রবাস উল্টো বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে দায় সেরেছেন।

এ বিষয়ে চুনারুঘাট-মাধবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রাফিউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার আশ্বাস দেন। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ছিনতাইকারী আশিকুর রহমানের কাছ থেকে কোনো স্বর্ণ উদ্ধার কিংবা তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

দিনের আলোয় প্রকাশ্যে এমন ছিনতাইয়ের ঘটনা এবং পরবর্তীতে পুলিশের রহস্যজনক ও দায়িত্বহীন আচরণে স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে অভিযুক্ত আশিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার, ছিনতাই হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Please Share This Post in Your Social Media

চুনারুঘাটে প্রবাসীর মায়ের স্বর্ণ ছিনতাই, আপসের পরামর্শ দিলেন এসআই

Update Time : ০৮:১৩:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Print

চুনারুঘাট উপজেলার বাসুল্লা গ্রামে দিনেদুপুরে এক ডেনমার্ক প্রবাসীর মায়ের স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বোনের বাড়িতে যাওয়ার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হন জবেদা খাতুন নামের এক নারী। এ ঘটনায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আপস করার পরামর্শ দেওয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের এমন ভূমিকায় সাধারণ মানুষের মনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর বিকেলে রাখী গ্রামের ডেনমার্ক প্রবাসীর মা জবেদা খাতুন তার বোন মিনারা খাতুনকে নিয়ে বোনের মেয়ে বিউটি আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বাসুল্লা গ্রামের কটাই মিয়ার বাড়ির সামনে পৌঁছালে অতর্কিতভাবে তাদের পথরোধ করেন স্থানীয় মর্তুজ আলী মোল্লার ছেলে আশিকুর রহমান (২২)। এ সময় সে জোরপূর্বক তাদের হাত থেকে স্বর্ণালংকারভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় বাসুল্লা গ্রামের মেন্দি মিয়ার ছেলে সোহেল (২৬) তার সহযোগী ছিল বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী নারীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এলেও ছিনতাইকারী আশিক ও সোহেল স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় ইউপি সদস্য সালেক মেম্বারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গ্রামবাসী অভিযুক্ত আশিক এবং তার পরিবারকে ছিনতাইকৃত স্বর্ণ ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু অভিযুক্তের পরিবার গ্রামবাসীর কথায় কোনো কর্ণপাত না করে কালক্ষেপণ করতে থাকে।

কোনো উপায় না পেয়ে পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী নারী জাবেদা খাতুন চুনারুঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর চুনারুঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রবাস বিষয়টিতে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন না করে এসআই প্রবাস উল্টো বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে দায় সেরেছেন।

এ বিষয়ে চুনারুঘাট-মাধবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রাফিউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার আশ্বাস দেন। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ছিনতাইকারী আশিকুর রহমানের কাছ থেকে কোনো স্বর্ণ উদ্ধার কিংবা তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

দিনের আলোয় প্রকাশ্যে এমন ছিনতাইয়ের ঘটনা এবং পরবর্তীতে পুলিশের রহস্যজনক ও দায়িত্বহীন আচরণে স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে অভিযুক্ত আশিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার, ছিনতাই হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।