জোয়ার-ভাটার জলাশয়ে মিলছে ৫০০ প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণ
- Update Time : ০৭:৪০:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / 5

ভারতের পূর্ব উপকূলে ছয় বছরে পাঁচ শতাধিক প্রজাতি নথিভুক্ত, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উপকূলীয় পদযাত্রা
ভারতের পূর্ব উপকূলে জোয়ার-ভাটার প্রভাবে পাথরের খাঁজে ও গর্তে তৈরি হওয়া ছোট ছোট জলাশয়ে সন্ধান মিলছে নানা ধরনের সামুদ্রিক প্রাণের। আপাতদৃষ্টিতে প্রাণহীন মনে হওয়া এসব পাথুরে এলাকায় রয়েছে সমৃদ্ধ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র। উপকূলের এই জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন ইস্ট কোস্ট কনজারভেশন টিম (ইসিসিটি)।
নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে তেনেতি পার্কসংলগ্ন সৈকতে ভাটার সময় পাথরের খাঁজে ছোট ছোট জলাশয় তৈরি হয়। এসব জলাশয়ে দেখা মেলে সামুদ্রিক তারামাছ, কাঁকড়া, ছোট মাছ, সামুদ্রিক শামুক, স্পঞ্জ ও সামুদ্রিক শৈবালসহ নানা প্রাণের।
ইসিসিটির ব্যবস্থাপনা ট্রাস্টি প্রিয়াঙ্কা ভেদুলা জানান, ভারতের পূর্ব উপকূলের এ অঞ্চল ভৌগোলিকভাবে বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। বিশাখাপত্তনমে উপকূল থেকে মাত্র চার থেকে ছয় কিলোমিটার দূরেই মহীসোপানের শেষ প্রান্ত ও মহীঢাল শুরু হয়েছে। এ কারণে গভীর সমুদ্রে বসবাসকারী অনেক সামুদ্রিক প্রাণীও উপকূলের কাছাকাছি চলে আসে।
গত ছয় বছরে বিশাখাপত্তনম উপকূলে ৫০০টির বেশি সামুদ্রিক প্রজাতির সন্ধান ও নথিভুক্ত করেছে ইসিসিটি। এর মধ্যে রয়েছে একটি সামুদ্রিক স্লাগের প্রজাতি, যা দীর্ঘদিন ধরে আর কোথাও ছবিতে শনাক্ত হয়নি।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাতে আয়োজিত একটি উপকূলীয় পদযাত্রায় সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী শ্রীচক্র প্রণব ওই প্রজাতিটির ছবি তোলেন। পরে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেন, এটি ‘ফিডিয়ানা ইউনিলিনিয়াটা’ প্রজাতির সামুদ্রিক স্লাগ। ১৮৬৪ সালে বিশাখাপত্তনম থেকেই ব্রিটিশ প্রাণিবিদেরা প্রথম প্রজাতিটির বর্ণনা দিয়েছিলেন। এরপর বিশ্বে আর কোথাও এর ছবি পাওয়া যায়নি। তাই সাম্প্রতিক ছবিটিকে প্রজাতিটির পুনরাবিষ্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২০ সাল থেকে ইসিসিটি ৩০০টির বেশি উপকূলীয় পদযাত্রার আয়োজন করেছে। এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ। এ উদ্যোগের মাধ্যমে ১৫০ জনের বেশি অংশগ্রহণকারী আন্তর্জাতিক নাগরিক বিজ্ঞান প্ল্যাটফর্ম আইন্যাচারালিস্টে যুক্ত হয়েছেন। তাঁরা সামুদ্রিক প্রাণের ১০ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষণ নথিভুক্ত করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জোয়ার-ভাটার মধ্যবর্তী অঞ্চল সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব জলাশয় ছোট মাছ, কাঁকড়া ও চিংড়ির আশ্রয়, প্রজনন এবং বেড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি করে। একই সঙ্গে শৈবাল ও অণুজীব সামুদ্রিক প্রাণের খাদ্য সরবরাহে ভূমিকা রাখে।
উপকূলীয় এ বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হলে বহু সামুদ্রিক প্রাণীর খাদ্য ও প্রজননক্ষেত্র হারিয়ে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বৃহত্তর সামুদ্রিক পরিবেশের ওপরও। তাই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে এসব আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই সেগুলো সংরক্ষণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন পরিবেশকর্মীরা।
তথ্যসূত্র: নিক্কেই এশিয়া; ইস্ট কোস্ট কনজারভেশন টিমের তথ্য























